Monday, 9 January 2017

ANDROID'S battery tips


স্মার্টফোন ব্যাটারি সম্পর্কে অতিকথন

রিচার্জেবল ব্যাটারি সম্পর্কে আমাদের চারপাশে প্রচুর পরিমাণে ভুল তথ্য রয়েছে। এ ধরনের ভুল তথ্য যেমন রয়েছে স্মার্টফোনে, তেমনি রয়েছে ট্যাবলেট, পোর্টেবল কন্সোলসহ অন্যান্য ডিভাইসের ক্ষেত্রেও। যেমন- এমন অনেক ব্যবহারকারী আছেন, যারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন চার্জিংয়ের সময় ডিভাইস ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। চার্জিংয়ের সময় যদি ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, তাহলে ব্যাটারির ওপর কোনো প্রভাব পরে না। অর্থাৎ ব্যাটারির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। তবে চার্জ হবে ধীরে ধীরে। কেননা, এ অবস্থায় এনার্জি তথা শক্তি ব্যবহার হতে থাকে। এছাড়া আধুনিক রিচার্জেবল ব্যাটারি সম্পর্কেও প্রচুর পরিমাণে ভুল ধারণা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের কাছে পরিষ্কার করা উচিত।নিচে ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে কিছু সাধারণ মিথ বা অতিকথন তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো রিচার্জেবল ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট।

০১. সব সময় ব্যাটারিকে ফুল চার্জ করা ও চার্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চার্জ না করা
এক সময় মোবাইল ডিভাইসে এমন ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার হতো, যার স্ট্যান্ডার্ড ক্যাপাসিটি মেইনটেইন করার জন্য চার্জ সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষিত হওয়ার পর পরিপূর্ণরূপে চার্জ করা দরকার, যা ‘মেমরি ইফেক্ট’ হিসেবে পরিচিত। ‘মেমরি ইফেক্ট’ হলো পুরোপুরি চার্জ শেষ হওয়ার আগে আবার চার্জ দেয়াকে এড়িয়ে যাওয়া।প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাটারির এই স্ট্যান্ডার্ড ক্যাপাসিটি মেইনটেইন করা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জ্ঞান হিসেবে ছিল। তবে যাই হোক, গ্রিন ব্যাটারের মতে এ ধারণা শুধু NiMH এবং NiCব্যাটারির জন্য প্রযোজ্য।
বর্তমানে আমরা মূলত লিথিয়াম-আয়ন রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করে থাকি, যা চার্জ করা দরকার হয় না অথবা সম্পূর্ণ চার্জশূন্য করা দরকার হয় না। আসলে বেশিরভাগ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তুলনামূলকভাবে ভালো পারফরম করে থাকে যদি না আপনি ব্যাটারির শক্তি পুরোপুরিঅপচয় করে ফেলেন। ব্যাটারির শক্তি পুরোপুরি নিঃশেষ করে ফেলার জন্য বা তাড়াতাড়ি চার্জ করার ফলে ব্যাটারির লাইফ স্প্যানে তথা আয়ুষ্কালে বা মোট ক্যাপাসিটির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লক্ষণীয় বিষয় হলো, আপনার ডিভাইসের ব্যাটারির আয়ুষ্কালের চার্জ সাইকেলের সংখ্যা। একটি ডিভাইসের ব্যাটারি সম্পূর্ণভাবে চার্জশূন্য হয়ে আবার পুরোপুরি রিচার্জ হওয়াকে বলে একটি চার্জ সাইকেল। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিসহ বেশিরভাগ রিচার্জেবল ব্যাটারি একটি নির্দিষ্টসংখ্যক চার্জ সাইকেলের পর কার্যকর ক্ষমতা কমতে থাকে। মেকানিক্সদের অনুমান,সাধারণত চার্জ সাইকেলের সংখ্যা হয়ে থাকে ৫০০-১৫০০-এর মধ্যে। এ কারণে সবচেয়ে ভালো অভ্যাস হলো বিপরীত কাজ করা এবং যতটুকু সম্ভব ব্যাটারিকে ফুল চার্জ রাখা। এমনকি যদি ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ চার্জ থাকে, তাহলেও চার্জ করা উচিত।

০২. স্মার্টফোনকে সারা রাত প্লাগড ইন রাখলে অর্থাৎ দীর্ঘ চার্জ সাইকেল ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর
আগে এক সময় আমরা জানতাম এবং বিশ্বাস করতাম, রাতে ঘুমানোর সময় অর্থাৎ সারা রাতবা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা স্মার্টফোনকে প্লাগইন অবস্থায় রাখা হলে ব্যাটারির ক্ষতি হয় এবং চার্জ ধরে রাখা থেকে বিরত থাকে।
বাস্তবতা হলো ঠিক এর বিপরীত। স্মার্টফোন যথেষ্ট ইন্টেলিজেন্ট এবং বুঝতে পারে এর ক্যাপাসিটি। ফলে কখন ব্যাটারি চার্জ হওয়া শুরু হবে এবং কখনএর ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জিত হবে। ব্যাটারি যখন পুরোপুরিচার্জিত হবে, তখন চার্জ হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
আসলে ইদানীং বেশিরভাগ ফোনই খুব স্মার্ট এবং এগুলোপুরোমাত্রায় ব্যাটারির শক্তি ব্যবহার করতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না এদের ব্যাটারি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত না চার্জিত হচ্ছে। এরপর এগুলো ‘trickle’ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিপূর্ণভাবে চার্জিত হয়।
এ বিষয়ে আমাদের চারপাশে প্রচুর পরিমাণে বিভ্রামিত্মকর তথ্য রয়েছে। এমনকি কিছু কিছু নামি-দামি টেক বস্নগেও দাবি করা হয় যে, এ ধারণা ভুল এবং খারাপ। বাস্তবতা হলো, আপনার ডিভাইসকে দীর্ঘ সময় এমনকি সারা রাত ধরে চার্জারের সাথে কানেক্টেড রাখা ভালো। WJCT-এর তথ্য মতে, মোবাইল ডিভাইসকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে ব্যাটারি সম্পূর্ণরূপে চার্জ হওয়ার পর আগত পাওয়ার সীমিত হয়। এর অর্থ হচ্ছে, ডিভাইস প্লাগ অবস্থায় থাকলে পরিমাণে খুব সামান্য হলেও ব্যাটারিতে বিদ্যুৎশক্তি ট্রান্সফার হয়।
এর মানে এই নয়, আপনি ডিভাইসকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ১২ ঘণ্টার বেশি চার্জ দিয়ে রাখবেন। এতে ব্যাটারি খুব গরম হয়ে যাবে, যা প্রকারান্তে ব্যাটারির আয়ুষ্কালের ওপর প্রভাব ফেলে। আরেকটি বিষয়, আমাদের মনে রাখা দরকার ব্যাটারিকে ম্যাট্রেসের ওপর রেখে অথবা বালিশের নিচে রেখে চার্জ দেয়া উচিত নয়। যাই হোক, অনেক ডিভাইসই চার্জিংয়ের সময় গরম হয়। আপনার ডিভাইসের তাপ নিষ্কাশনের ব্যবস্থাযদি যথাযথ না হয়, তাহলে অতিরিক্ত গরমের কারণে ডিভাইসের কম্পোনেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

০৩. শুধু ওইএম

No comments:

Post a Comment